মালয়েশিয়ায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে মহান ভাষা শহীদদের স্মরণ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন, কুয়ালালামপুর অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা ও পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এতে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয় এবং ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ১৯৫২ সালের অমর একুশের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
প্রথমেই শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী। এরপর শ্রদ্ধা জানান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
আলোচনা সভায় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়।
প্রথম সচিব (বাণিজ্য) প্রণব কুমার ঘোষের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী বলেন, মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষায় যারা বুকের রক্ত দিয়েছেন তাদের আত্মত্যাগ বিশ্ব ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। ভাষার জন্য জীবন বিসর্জনের এ ঘটনা শুধু বাঙালি জাতির গর্ব নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের ভাষাপ্রেমী মানুষের জন্য এক অনুপ্রেরণা।
তিনি ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালির জাতীয় চেতনার ভিত্তি রচনা করে। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে স্বাধীনতা সংগ্রামের বীজ বপন হয়।
হাইকমিশনার প্রবাসে নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির চর্চা জোরদারের আহ্বান জানান।
আলোচনায় অন্যোন্য বক্তাদের মতে, বিদেশের মাটিতে বেড়ে ওঠা শিশু-কিশোরদের মাতৃভাষার সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখতে পরিবার ও কমিউনিটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে ভাষা আন্দোলনভিত্তিক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরে অংশগ্রহণকারীরা আবেগঘন পরিবেশে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানটি সমবেত কণ্ঠে পরিবেশন করে শহীদদের স্মরণ করেন। পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল শোক, গর্ব ও আত্মমর্যাদার মিশ্র অনুভূতি।
বক্তারা আরও বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলা ভাষার স্বীকৃতি অর্জনে ভাষা শহীদদের অবদান চিরস্মরণীয়। একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার মধ্য দিয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে বাঙালির আত্মত্যাগের ইতিহাস আরও উজ্জ্বল হয়েছে।
তারা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ভাষা শহীদদের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানবতা, ন্যায় ও সত্যের পথে এগিয়ে যাবে।
প্রবাসের মাটিতে এমন আয়োজন বাঙালির শিকড়ের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতার বহিঃপ্রকাশ—এমন মন্তব্য করেন উপস্থিত অনেকে।
মহান একুশের চেতনা বুকে ধারণ করে মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিরা আবারও প্রতিজ্ঞা করেন, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির মর্যাদা রক্ষায় তারা ঐক্যবদ্ধ থাকবেন।


